আযান দেয়ার নিয়মঃ

আযানের সুন্নাত নিয়ম হলো মুয়াযযিনকে আযানের সময় হলে পাক পবিত্রবস্থায় সুন্দর করে ওযু করে, পাক জায়গায় দাঁড়িয়ে, আযান দিতে হবে। আর মসজিদের ক্ষেত্রে নিয়ম হলো মসজিদের দক্ষিণ পার্শ্বস্থ মিনারায় কিবলা অপেক্ষা উঁচু স্থানে কেলবামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে উভয় কানের ছিদ্রদেশে দু’হাতের দু’শাহাদাত আঙ্গুলি প্রবেশ করিয়ে নিন্মোক্ত বাক্যগুলো উচ্চকষ্ঠে উচ্চারণ করবে ৷

১. চারবার-আল্লাহু আকবার (আল্লাহ্ মহান) বলবে।

২. দু’বার-আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কােন উপাস্য নেই) বলবে।

৩. দু’বার-‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’ (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি হযরত মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর রাসূল) বলবে ৷

8. দু’বার-“হাইয়্যা আ’লাচ্ছালাহ্’ (নামাযের দিকে আস) বলবে ৷

৫. দু’বার-‘হাইয়্যা আ’লাল ফালাহ্’ (সাফল্যের দিকে আস) বলবে।

৬. ফজরের নামাযের আযানের সময় দু’বার ‘আচ্ছালাতু খাইরুম যিনান্নাওম’ (ঘুম হতে নামায উত্তম) বলবে । অন্য কোন ওয়াক্তে বলতে হবে না।

৭. দু’বার-‘আল্লাহু আকবার’ (আল্লাহ্ মহান) বলবে।

৮. একবার-‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ (আল্লাহ্ ব্যতীত উপাস্য নেই) বলবে ।

আযানের উত্তরঃ

আযান দেয়ার সময় যত লোক উক্ত আযান শুনবে সকলকেই আযানের প্ৰতি উত্তর দিতে হবে । যখন তাদের কানে আযানের প্রতিধ্বনিগুলো শ্রুত হবে, তখন তারা ঠিক অনুরূপই উত্তর দিতে থাকবে। তবে শুধুমাত্র যখন ‘হাইয়্যা আলা’চ্ছালাহ্ এবং হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ শুনবে তখন বলবে, ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লাবিল্লাহ’ ৷ আর ফজরের আযান যখন শুনবে ‘আছছালাতু খাইরুম যিনান্নাওম ’ তখন বলবে ‘ক্বাদ ছাদ্দাক্বতা ওয়া বারাকতা।

আযানের দোয়াঃ

আযানের পর নিন্মলিখিত দোয়া পাঠ করতে হয়-

উচ্চারণঃ ‘আল্লাহুম্মা রাব্বা হাযিহিদ্ দা’ ওয়াতিত তাম্মাতি ওয়াচ্ছালাতিল ক্বায়িমাহ্ ৷ আতি মুহম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাযীলাতা ওয়াদ্দারাজাতার রাফিয়া’তা । ওয়াব আছহু মাক্বামাম মাহমুদা নিল্লাযী ওয়া আদতাহ্ । ওয়ার যুকনা সাফায়াতাহু ইয়ামাল কিয়ামা । ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী-আ’দ ।

যাদের জন্য আযানের উত্তর প্রদান জরুরী নয়ঃ

আযানের বাক্য যাদের কানে যাবে, তাদেরকেই উত্তর প্রদান করতে হবে এমন নয়। নির্দিষ্ট কিছু লোক এর উত্তর প্রদান হতে বিরত থাকবে । যেমন-

১. নামাযরত ব্যক্তি ।
২. পবিত্র কুরআন পাঠরত ব্যক্তি ।
৩. খুতবা পাঠকারী ও শ্রবণকারী।
৪. প্ৰস্রাব পায়খানা থাকাকালীন।
৫. হায়েয নেফাছ ওয়ালী মহিলা।
৬. খাবার সময়।
৭. স্ত্রী সহবাসের সময়।
৮. অপবিত্র অবস্থায় যাদের উপর গোসল ফরয।

যেখানে আযান দেয়া সুন্নাতঃ

১. নবজাতক শিশুর কানে ৷
২. ভীষণ ঝড় ও ভুফানের সময় ৷
৩. ভয়ের সময় ৷
8. মৃগী রোগীর কানে ৷
৫. ভূত , পেত্নী আক্রান্ত লোকের কানে ৷
৬. সজ্ঞাহীন ব্যক্তির কানে ৷
৭. আগুন লাগলে।
৮. যে মূসাফির দল হতে হারিয়ে যায় তাকে দলে ফিরে আনার জন্য ৷
৯ . প্রচন্ড যুদ্ধ ও শত্রুর হামলার সময়।

ইকামতঃ

ইকামত অর্থ প্রতিষ্ঠা করা , প্রতিষ্ঠিত হওয়া, শুরু হওয়া ইত্যাদি । যেহেতু ইকামতের দ্বারা নামায শুরু তথা প্রতিষ্ঠিত হয় , সেহেতু একে ইকামত বলা হয় ৷ পাঁচ ওয়াক্ত নামায ও জুমআর নামাযের ফরয নামায আদায় করার পূর্বে ইকামত দিতে হয় , ইকামতেয় শব্দগুলো আযানের বাক্যের অনুরূপ, শুধুমাত্র ‘হাইয়াআলাল ফালাহ্’ বলার পর ‘ক্বাদক্বামাতিচ্ছালাহ’ দু’বার বলতে হবে। এর জওয়াব দেয়া মুস্তাহাব ৷ ইকামতের সময় কানের ছিদ্র বন্ধ করার প্রয়োজন নেই এবং ডানে-বামে, মুখ ফিরাবারও দরকার নেই। আর আযানের মত উচ্চকষ্ঠেও বলতে হয় না ৷